Sohail Rahman's Story | April 9


ভাই দেশে এতোকিছু হচ্ছে আর আপনি চুপ কেন? এই পরিস্থিতিতে আপনার অপিনিয়ন কি?
.
আমার অপিনিয়ন বি লাইক-
.
দেশের যা কিছু খারাপ হবে তার দোষ অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে। সরকার কেন আরো আগে থেকে ব্যবস্থা নিলো না। কেন প্রতিটা সেক্টরে এতো দূর্নীতি, এতো অব্যবস্থাপনা। আজ সরকার সঠিক সময়ে কাজে নামলে করোনা এতোটা ছড়াতে পারতো নাকি?
.
অবশ্য সরকারও বা কি দোষ! এই দেশের জনগন কি ভালো? এদের কি ভালো কথা মাথায় ঢোকে? জনগনের অসচেতনতা আর বেশি বোঝার দায় সরকার আর কত নিবে। একটা গরীব দেশের সরকার হিসাবে কম তো করেনাই। অন্য অনেকের থেকে বেশিই করেছে। অথচ জনগন তো ভালো না। এদেরকে জাস্টিন ট্রুডো দিলেও এরা যেমন তেমনই থাকবে। অসহ্য যতসব।
.
কিন্তু তাই বলে এই না যে পুলিশ আর্মি নামিয়ে যত্রতত্র লাঠিচার্জ করবে। এটা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। যারা দিনে আনে দিনে খায় তারা কি করবে? যাদের খুব প্রয়োজন তারা কি করবে? অবিলম্বে এই লাঠিপেটার শেষ দেখতে চাই। গনতান্ত্রিক দেশে এগুলো চলবে না।
.
অবশ্য প্রশাসনেরই বা কি দোষ! গনতন্ত্র জিনিসটা তো বাঙালীর জন্য না। এদের দরকার কিম জং উন। কঠিন মাইর না দিলে এরা জীবনেও ঘরে থাকবে না। এতো বলতেছে মসজিদে না যাওয়ার জন্য, সবাই এতো বুঝাচ্ছে তাও এরা ঠিকই যাচ্ছে। অনেক জায়গায় ছাদে বা মাঠে জামাত হচ্ছে। মিলাদ হচ্ছে। একত্রে দোয়া হচ্ছে। ঘিলুহীন এই জাতিকে মাইর ছাড়া বোঝানো যাবে না কোনোদিন।
.
তবে খালি নামাজীদেরই বা দোষ কি! বাকি সব খোলা রইছে। বাজারে লোক যাচ্ছে। চায়ের দোকানে ভীড়। গার্মেন্টস নিয়ে যে নাটক করলো। দোষ তো একা নামাজীদের না। এইযে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছে না। বহু লোক করোনা ছাড়া এমনিতেই বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। তো মরার এতো ভয় থাকলে ডাক্তার হতে বলেছিলো কে?
.
অবশ্য ডাক্তারদেরও আর দোষ কি! তোমরা তাদের পিপিই দিবা না, সাপোর্ট দিবা না, কাজ করার পরিবেশ দিবা না, আইসিইউ দিবা না, সারাদেশের মানুষ পিপিই পরে ঘুরে বেড়াবা, আবার গালিও দিবা ডাক্তারদের। কেন ভাই। খালি সব দায় কি ডাক্তারদেরই নাকি? তোমরা ঘরে বসে বসে ফেসবুক চালাবা আর ডাক্তাররা শুধু মরবে একে একে তা তো হবেনা। ডাক্তাররা যা করছে ঠিকই করছে।
.
তোমরা কি করতেছ? ঘরে বসে নানান চ্যালেঞ্জ নিচ্ছ। এতো কে কমেন্ট হলে এতোকিছু ছিড়বা। এই গেমে এতো স্কোর আসছে মানে তোমারটা এতো বড়। ভাইরেভাই, টাইলস আর মশারীর ফুটো সমানে গুনে শেষ করে দিচ্ছে পাবলিক। এতো তেল আসে ক্যামনে। মানুষ যে না খেয়ে মরতেছে সেই খেয়াল আছে? রান্না করে বিরিয়ানি আর ডাল না বালগোনা কফির ছবি দিতে লজ্জা করে না?
.
অবশ্য এদেরই বা দোষ কি! ঘরে থাকতে থাকতে বোরিং লাগবে এটাই স্বাভাবিক। নিজে একটু ফেসবুকে চ্যালেঞ্জ, গেম খেলে টাইম পাস করবে, ভালো থাকবে, তাতেও কিছু মানুষের চুলকানি। কেন ভাই, কথা বলার জিনিসের অভাব আছে দেশে? মানুষ ত্রানের চাল মেরে দিচ্ছে, স্বাস্থমন্ত্রী কথা না পেয়ে পালাচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, করোনা রোগী বাড়তেছে ডেইলি, এগুলা নিয়ে কথা বলো না। আসছে!
.
যারা কথা বলতেছে তারাও কম যাচ্ছে না। কেউ সরাসরি গুলি করতে বলতেছে তো অন্যরা আবার বিজ্ঞান নাকি ধর্ম বাঁচাবে এই তর্কে ব্যস্ত। আরেক দল ত্রাণ দেয়ার নামে ছবি তুলে ফেসবুক ভাসায়ে ফেলতেছে। ছবি তোলার এতো শখ থাকলে মডেলিং কর না ভাই, জনসেবায় কেন নামছস?
.
অবশ্য এদেরই বা দোষ কি! এরা তাও তো কিছু বলতেছে, কিছু করার চেষ্টা করতেছে নিজস্ব জায়গা থেকে। আর আমি কি করতেছি? আমি চুপ কেন?
.
অবশ্য আমারই বা দোষ কি! করোনা নিয়ে এতো এতো পোস্ট দেখতে দেখতে মাথার মধ্যে পুরা প্যাচ লেগে যাচ্ছে। সব দোষ শালা ঐ করোনা ভাইরাসের। ওরা না ছড়ালে তো আজ এতো ঝামেলা এতো কষ্ট হয় না আমাদের।
.
অবশ্য ভাইরাসেরই বা দোষ কি! ওরা তো জাস্ট চাচ্ছে নিজেরা বেঁচে থাকতে, নিজেদের বংশ বিস্তার করতে। ওদের কাছে ওরাই তো সব। ওরা কেন মানুষের কথা ভাববে? মানুষ যদি নিজেদের কথা ভেবে ঘরে না থাকে তো ভাইরাস কি করতে পারে! তারা তো ছড়াবেই।
.
.
মোর‍্যাল অফ দ্যা স্টোরি-
.
যদি এবারের মত বেঁচে যাও,
যদি কেটে যায় মৃত্যুর ভয়-
জেনো ডায়ালগ ঝেড়েছিলো সবে,
কেউ কোনোকিছু ছেড়েনাই!
.
.
অবশ্য এদেরও বা দোষ কি.....! 
Reactions

Post a Comment

0 Comments